মাছুম ও তন্দ্রার অনলাইন বাড়ি
দরজায় চাপো — ভেতরে সব সাজানো আছে। জানালাগুলোতে চাপলে সোজা সেই ঘরে ঢুকে যাবে।
তোমার দিন আসতে আর বাকি
আজ রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আসল কাউন্টডাউন শুরু হবে। তখন এই বাড়ির সব আলো নিভে যাবে, গান থেমে যাবে — শুধু একটা ঘড়ি চলবে।
ঠিক ১২টায় যা হবে, সেটা তোমাকে এখন বলব না। ওই সময় তুমি শুধু এখানে থেকো।
তোমার বয়স, এই মুহূর্তে
আমার কণ্ঠ, যখন খুশি
তুমি লিখেছিলে আমার গলা শুনে তোমার সকাল হয়। তাই কিছু কথা রেকর্ড করে এখানে রেখে দিলাম — যখন মন চায়, শুনে নিও।
লোড হচ্ছে…
এগুলো তোমার
—
তোমাকে দেখি, বারবার
ফোনের গ্যালারিতে তোমার ছবিগুলো এলোমেলো পড়ে ছিল। আজকের দিনে একটা একটা করে সাজিয়ে রাখলাম — প্রতিটার নিচে আমার একটা করে কথা।
প্রতি ঘণ্টায় একটা করে
আজ তুমি ২৪-এ পা দিলে। তাই দিনটাকে ২৪ ভাগ করে প্রতিটা ঘণ্টায় একটা করে কথা লুকিয়ে রেখেছি। ঘড়ির কাঁটা এগোলে একটা করে খুলবে — সারাদিন ধরে।
—
এই কদিন আমি পাশে আছি
তুমি বলো না, তবু আমি তারিখটা মনে রাখি। শরীর ভারী লাগলে, পেটে ব্যথা করলে, কারণ ছাড়াই কান্না এলে — জেনে রাখো, আমি জানি, আর আমি রাগ করি না।
তোমার তারিখটা মিলিয়ে নিচ্ছি…
একটা কথা লিখে রাখলাম, যেন তোমার মনে থাকে।
এই কদিন তুমি যা বলবে, যেভাবে বলবে — সব মাফ। ঝাঁঝিয়ে বললে মাফ, ফোন কেটে দিলে মাফ, কিছু না বলে চুপ করে থাকলেও মাফ। আমি পাল্টা রাগ করব না, হিসাব রাখব না, মনেও রাখব না।
কারণ রাগটা তোমার না, ওটা শরীরের। আর তোমার শরীরের উপর আমি অভিমান করতে পারি না।
— তোমার মাছুম
পরের তারিখগুলো — আমি মনে রাখব
প্রতি মাসে এই বাড়ি নিজেই হিসাব করে নেবে, আর মাছুমকে খবর পাঠিয়ে দেবে। তোমার কিছু বলতে হবে না।
তারিখ এদিক-ওদিক হলে উপরের বোতামটা চেপে দিও — হিসাবটা ঠিক হয়ে যাবে।
তোমাকে কেন ভালোবাসি
প্রতিটা ঘরে চাপো — একটা করে কারণ বেরিয়ে আসবে।
চব্বিশটা কারণ লিখেছি। সত্যি বলতে, আরও আছে — জায়গা হয়নি।
বাক্সটা খোলো
বাক্সটায় চাপো।
ভেতরে কোনো জিনিস নেই, তন্দ্রা। জিনিস তো তুমি চাওও না — তুমি নিজেই লিখেছিলে, তোমার কিছু লাগবে না।
তাই এই বাক্সে যেটা আছে সেটা হলো একটা কথা: আজ থেকে তোমার যা যা দরকার, সেটা জোগাড় করা আমার কাজ। ছোট হোক, বড় হোক — তোমাকে চাইতে হবে না।
আর মার্সিডিজটার কথা মনে আছে তো? ওটা এখনো তালিকায় আছে। তারিখটা শুধু এখনো বসাইনি।
— মাছুম
মোমবাতিগুলো নেভাও
পাঁচটা মোমবাতি জ্বলছে। সত্যি সত্যি ফুঁ দাও — ফোনের মাইক্রোফোন শুনবে। না হলে মোমবাতিতে চাপলেও নিভবে।
আজ কেমন আছো?
সত্যি করে বলো। আমি দেখব — এখানে যা চাপবে, আমার কাছে খবর চলে যাবে।
এদিকে এসো
কী হয়েছে জানি না। কিন্তু এটুকু জানি — আজকের দিনটা খারাপ গেছে, আর তুমি এখানে এসেছো। ভালো করেছো।
কাঁদতে ইচ্ছে করলে কেঁদে নাও। আমি কাউকে বলব না। তারপর ফোনটা হাতে নাও, আমাকে বলো — পুরোটা, বানিয়ে বানিয়ে না, যেমন হয়েছে তেমন।
আর মনে রেখো: তোমার খারাপ দিনগুলোও আমার। একা ভাগ করার দরকার নেই।
কবে কী হলো
- ২৪ আগস্ট টিন্ডারে পরিচয়। আমি ঢুকেছিলাম একদম হুদাই, আর তুমি বেরিয়ে এলে।
- ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দেখা। কালো শাড়ি, উবার এক্স-এল, আর আমার উল্টে যাওয়া হিসাব।
- ২৭ সেপ্টেম্বর একদিনে দুটো জিনিস — সব ভেঙে গেল, আর তুমি এয়ারপোর্ট থেকে আমার বোনদের নিয়ে এলে। সন্ধ্যার আগেই সব জোড়া লেগে গেল।
- ৩০ সেপ্টেম্বর তোমার আম্মু আর আমার আম্মুর ভিডিও কল। দুই পরিবার এক হয়ে গেল একটা বিকেলেই।
- ৮ অক্টোবর তোমার জন্মদিন। এই বাড়িটা ওই দিনের জন্যই বানানো।
পঁয়তাল্লিশ দিনও হয়নি, তন্দ্রা। অথচ দেখো, কতগুলো তারিখ আমাদের নামে লেখা হয়ে গেছে।
তোমার প্রতিটা চিঠির উত্তর
তুমি যা যা লিখেছো, সবগুলোর উত্তর এখানে — একটা একটা করে খোলো।
আজকের পড়া
আমি সিলেটি, তাই তোমাকেও শিখতে হবে। রোজ চারটা করে — বেশি না।
আমাদের ভবিষ্যতের বাড়ি
যে ঘরটা দেখতে চাও, ওটাতে চাপো।
এই বাড়িটা এখনো বানানো হয়নি
কিন্তু আমার মাথায় পুরোটা আঁকা আছে — কোন ঘরে কী থাকবে, কে কোথায় থাকবে। উপরের নকশায় যেকোনো ঘরে চাপো, আমি বলছি।
একদিন এই বাড়িটা সত্যি হবে, ইনশাআল্লাহ। ততদিন এখানেই থাকুক — ঠিকানাটা তুমি জানো।
জন্মদিনের আগের উপহার
শুভ জন্মদিন
শামসিয়া খান
তন্দ্রা
৮ অক্টোবর, ২০০২
একবারে সব দেখো না। এক এক করে পরের পাতায় যাও — প্রতিটা পাতায় তোমার জন্য একটা কথা রাখা আছে।
এই মর্মে ঘোষণা করা হলো
শামসিয়া খান তন্দ্রা
আমার রাজ্যটা খুব বড় না — একটা ফোন, কয়েকটা রিকশার সিট, মিরপুরের একটা দোকান, আর অনেকগুলো রাত। এই রাজ্যের একমাত্র রাজকন্যা তুমি।
- রাজকন্যার রাগ ৫ মিনিটের বেশি রাখা নিষেধ।
- তাকে না খাইয়ে ঘুমাতে দেওয়া যাবে না।
- তাকে কোনোদিন একা ফেরত পাঠানো যাবে না।
- তার সব আবদার মঞ্জুর — আগেই, প্রশ্ন ছাড়াই।
স্বাক্ষর: মাছুম — এই রাজ্যের একমাত্র প্রজা
আজ ৮ অক্টোবর — আজ তোমার দিন, তন্দ্রা।
৮ অক্টোবর ২০০২ থেকে আজ পর্যন্ত তুমি এই পৃথিবীটাকে সুন্দর করছো।
এই ঘড়িটা আমি থামাতে পারি না। কিন্তু এই একটা অপেক্ষা আমার ভালো লাগে — কারণ এর শেষে তোমার দিনটা আছে।
আজ রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আসল কাউন্টডাউন শুরু হবে। বাড়ির সব আলো নিভে যাবে, গান থেমে যাবে — শুধু একটা ঘড়ি চলবে। ঠিক ১২টায় কী হবে সেটা বলব না। তুমি শুধু ওই সময় এখানে থেকো।
—
রোজ রাত ১২টায় নতুন একটা লেখা খুলবে।
তুমি রোজ এই পাতাটা খোলো
—
বার এসেছো
ভেবেছিলে আমি টের পাই না? যতবার খুলেছো, সবগুলো গোনা আছে এখানে।
রোজ রাত ১২টায় নতুন লেখা আসে বলেই তুমি ফিরে ফিরে আসো — জানি। আর এই কথাটা ভেবেই আমার সারাদিন ভালো যায়।
একটা মানুষ রোজ যেখানে ফিরে আসে, সেটা আর ওয়েবসাইট থাকে না। ওটা তখন ঠিকানা হয়ে যায়।
হুদাই ঢুকেছিলাম, তারপর তুমি এলে
আমাদের পরিচয় মাত্র ৩১ দিন আগে, টিন্ডারে। আমি ওখানে গিয়েছিলাম একদম হুদাই — কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, কিছু হবে সেটাও ভাবিনি। তুমিও জানতে না, আমিও জানতাম না।
তারপর সেই হুদাই থেকেই তুমি হয়ে গেলে আমার জান।
এত অল্প কয়েকটা দিনে একটা মানুষ এতটা আপন হয়ে যেতে পারে — এই কথাটা আগে কেউ বললে আমি হাসতাম। তুমি হাসিটা থামিয়ে দিলে।
প্রথম দেখা, আর সেই কালো শাড়ি
তুমি আমাকে নিয়ে যেতে উবার করলে — এক্স-এল। সাধারণ গাড়ি হলেই হয়ে যেত, কিন্তু তুমি এক্স-এল করলে। আমি তখনই বুঝে গিয়েছিলাম, তুমি জিনিসটা অন্য লেভেলের।
তারপর তুমি নামলে। কালো শাড়ি পরা। মাশাআল্লাহ। এখনো চোখ বন্ধ করলেই সেই এক মুহূর্তটা আমি দেখতে পাই — ওটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় ছবি, যেটা কোনো ক্যামেরায় তোলা হয়নি।
তোমার হাতের সেই আংটিটা
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, আর তুমি খুব সহজ গলায় বললে — তিন লাখ। আমি এখনো ওটা নিয়ে তোমাকে পচাই, পচাবোও। কিন্তু সত্যিটা এই পাতায় লিখে রাখলাম: আংটিটা না, ওই আংটি যেই হাতে ছিল — সেই হাতটাই সবচেয়ে সুন্দর।
মেকআপের বিল
ষোলো হাজার টাকার মেকআপ কিনলে। আমি হাসি, তুমি রাগ করো, তারপর তুমিও হেসে ফেলো — এই চক্রটা পুরোপুরি আমাদের।
তবে তন্দ্রা, একটা কথা সিরিয়াসভাবে বলি: আমি যে তন্দ্রাকে ভালোবাসি, সে মেকআপ ছাড়াও ঠিক ওটাই। তুমি সুন্দর হতে টাকা লাগে না — তুমি সুন্দর হয়েই জন্মেছো, মাশাআল্লাহ।
৫:০০
“প্লিজ, ৫ মিনিটের জন্য দেখা করি”
তুমি রোজ এটা বলো। তারপর সেই “৫ মিনিট” কখন পুরো সন্ধ্যা হয়ে যায়, তুমি নিজেও বোঝো না।
আমি কিছু বলি না — কারণ আমি তোমার ওই মিথ্যাটার জন্যই সারাদিন অপেক্ষা করে বসে থাকি।
সহজ দিনগুলো
তোমার সাথে পান খেয়েছি, রিকশায় চড়েছি, কোনো কারণ ছাড়াই রাস্তায় হেঁটেছি।
ঢাকা শহরটা আমার কাছে এত সুন্দর লাগত না, যদি এই মানুষটা পাশে না থাকত।
সেই সিঙ্গারার দিনটা
মিরপুরের ওই রেস্টুরেন্টে তোমার সাথে বসে সিঙ্গারা খাওয়া — দিনটা আমার সেরা দিনগুলোর একটা হয়ে আছে।
তুমি তো জানোই না, আমি সিঙ্গারা কতটা ভালোবাসি। সেদিন বুঝলাম — প্রিয় জিনিসটা প্রিয় মানুষের সাথে খেলে স্বাদটাই পাল্টে যায়।
তাই সত্যি কথাটা লিখেই ফেলি: তোমার পরেই আমার দ্বিতীয় প্রেম সিঙ্গারা। রাগ কোরো না — এক নম্বরটা তো তোমারই, আর ওটা কেউ নিতে পারবে না।
ছবিগুলো নিজে থেকেই বদলাবে — অথবা নিচের বিন্দুতে চাপো।
তোমাদের বাসার নিচে
তোমার আম্মুর সাথে তোমাদের বাসার নিচে দেখা হলো, আর তুমি নিজের হাতে আমাকে পান খাওয়ালে।
আম্মু যত কিউট, মাশাআল্লাহ — সেদিন বুঝে গেলাম, তুমি এই মিষ্টিটা কার কাছ থেকে পেয়েছো।
যে মানুষটা তোমাকে বানিয়েছেন
আমি বিশ্বাস করি, একটা মানুষ যেমন হয় — সেটা তার মায়ের হাতের কাজ। তুমি এত মায়া নিয়ে বড় হয়েছো, এটা একদিনে হয়নি।
তোমার ভেতরের যেই জিনিসটা আমাকে আটকে ফেলেছে — তোমার আপন করে নেওয়ার ক্ষমতাটা — ওটা তোমার আম্মুর কাছ থেকে পাওয়া। তাঁকে দেখেই বুঝেছিলাম।
তোমার আম্মুকে আমার সালাম। আর একটা কথা তাঁকে বলার আছে — তাঁর মেয়েটাকে আমি যত্নে রাখব। এই কথাটা ফোনে না, আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বলতে চাই।
দুই বোন, দুই রকম ঘুম
তোমার নামের মানে আধো-ঘুম। আর তোমার বোনের নাম নিদ্রা — মানে পুরো ঘুম।
নাম রাখার সময় তোমার আব্বু-আম্মু কী ভাবছিলেন আমি জানি না, তবে ওই বাসায় নিশ্চয়ই কেউ কোনোদিন রাত জাগে না। আর তুমি? তুমি তো সারারাত জেগে আমার সাথে কথা বলো — নিজের নামের অপমান করছো, তন্দ্রা।
নিদ্রা তোমাকে “বাচ্চা” বলে ডাকে। প্রথমে হেসেছিলাম, তারপর কয়েকদিনেই বুঝে গেলাম — ও একদম ঠিক বলে। তুমি রাগ করলে বাচ্চা, খেতে না চাইলে বাচ্চা, জেদ ধরলে তো পুরো বাচ্চা।
তাই এই ব্যাপারে আমি তোমার বোনের দলে। তুমি আমার বাচ্চাটাই। এটা নিয়ে আর তর্ক হবে না।
তোমার বন্ধুটার কথা
ইদানীং মৃদুলা আমাদের নিয়ে একটু জেলাস — তুমি নিজেও টের পাও, আমাকে বলোও।
আমি এটা নিয়ে রাগ করি না। মানুষ সাধারণত ওটা নিয়েই কথা বলে, যেটা তার নেই। আর ও হয়তো তোমাকে হারাতেও চায় না — ওইটুকুই।
তবে তুমি এসব নিয়ে মন খারাপ কোরো না। তুমি তোমার মতোই থাকো, যেমন আছো। কে কী বলল, ওটা তোমার হিসাবের খাতায় তোলার দরকার নেই।
আর সত্যি বলতে, জেলাস হওয়াটাও তো একরকম প্রশংসা। মানে আমাদেরটা এতটাই ভালো যে সেটা লোকের চোখে পড়ছে। আমি এতে খুশিই হই।
যাঁকে তুমি সব বলো
তোমার অফিসের বসের স্ত্রী — তোমার ভাবি। তোমার সব কথা ওখানে যায়, আমি জানি। ভালো খবর, খারাপ খবর, আর আমার নামে নালিশ — সব।
প্রথমে একটু অস্বস্তি লাগত, সত্যি বলি। পরে বুঝলাম, এটা ভালো জিনিস। অফিসে এমন একজন মানুষ থাকা দরকার যার কাছে সব খুলে বলা যায় — সবার ভাগ্যে সেটা জোটে না, তোমার জুটেছে।
শুধু একটা অনুরোধ: আমার নামে নালিশ করার সময় ভালো দিকগুলোও একটু বোলো। অন্তত সিঙ্গারার ব্যাপারটা, আর যে আমি তোমার রাগ ভাঙাতে জানি — এটুকু।
ভাবিকে আমার সালাম। যিনি তোমাকে আগলে রাখেন, তিনি আমারও আপন মানুষ।
লিও, সিফরা, স্টাফি, সিম্বা
তুমি বিড়াল ভালোবাসো, আর আমি তোমাকে — দুটোই সমান সত্যি।
তবে একটা কথা বলি, লিও আমার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। কারণ ও তোমার কোলে বসে থাকে, আর আমি এখনো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।
চারটা বিড়াল, একটা তন্দ্রা — ওই বাসায় ভালোবাসার কোনো অভাব নেই। আমি শুধু ওখানে পঞ্চম সদস্য হতে চাই।
তুমি তোমার আব্বুকে “তুই” বলো
প্রথমবার শুনে আমি হেসে ফেলেছিলাম। এখনো এটা নিয়ে তোমাকে পচাই।
কিন্তু সত্যি বলতে, এই একটা জিনিস আমি তোমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি — তুমি যাদের ভালোবাসো, তাদের সাথে কোনো ফরমালিটি রাখো না। তোমার ভালোবাসায় নিয়ম নেই, শুধু আপন মানুষ আছে।
তুমি রান্না পারো না, তবুও করেছিলে
এই কথা তুমি নিজেই বলো — “আমি রান্না পারি না”। তারপর একদিন আমার জন্য মাংস রান্না করে নিয়ে এসেছিলে, সাথে নুডলস।
সেদিন বুঝেছিলাম — ভালোবাসা রেসিপি মানে না, ভালোবাসা শুধু চেষ্টা করে। আমার জীবনে খাওয়া সবচেয়ে ভালো মাংস ওটাই, আর এই রেকর্ড কোনো রেস্টুরেন্ট ভাঙতে পারবে না।
তুমি ১০ হাজার জিতলে, আমি ২০
তন্দ্রা
০
আমি
০
কালকে রাতের হিসাব
রাতে তোমার সাথে গেম খেলা আমার দিনের সবচেয়ে ভালো অংশ। কালকে রাতে তুমি আমার থেকে দশ হাজার নিয়ে নিলে লুডুতে — জেতার পর তোমার ওই ভাবটা আমার এখনো মনে আছে। তারপর আমি আবার বিশ হাজার জিতলাম।
তবে আসল হিসাবটা আমি বলি: তুমি জিতলেও টাকাটা তোমার, আমি জিতলেও টাকাটা তোমার। আমি শুধু খেলি তোমার ওই হেরে যাওয়ার পরের রাগ করা মুখটা দেখার জন্য।
- তোমার চুল
- এটা নিয়ে আমি কোনোদিন মজা করব না। তোমার চুল আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসগুলোর একটা — লিখে রাখলাম।
- তোমার হাসি
- তুমি হাসলে আমি কী বলছিলাম সেটাই ভুলে যাই। এই সমস্যাটা এখনো সারেনি, আর আমি চাইও না সারুক।
- তোমার হিসাব
- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে তুমি সারাদিন অন্যের টাকার হিসাব করো। আর আমি সারাদিন তোমার হাসির হিসাব করি — আমার খাতাটাই বেশি লাভের।
- তোমার রাগ
- তোমার রাগ ঠিক ৫ মিনিট থাকে। মানে শুধু ওই এক জায়গাতেই তুমি “৫ মিনিট” কথাটা সত্যি করে দেখাও।
তিনটা শব্দ, তিনটা মানে
মানে দাঁড়ায় — তোমার নামের শুরুতে সূর্য, আর শেষে তন্দ্রা। ভোর আর ঘুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মানুষ।
আমি তোমাকে ঠিক ওই ভোরের মতোই দেখি: চোখ খোলার আগেই আলোটা এসে পড়ে। হ্যাঁ, আমি তোমার নাম নিয়েও এতটা ভেবেছি।
যে দিনটা শুধু তোমার
- রাশি
- তুলা · দাঁড়িপাল্লা
- জন্মপাথর
- ওপাল
- জন্মফুল
- গাঁদা
- জন্মবার
- —
- এবার পড়েছে
- —
- এবার হচ্ছে
- —
তোমার রাশির প্রতীক দাঁড়িপাল্লা — হিসাব মেলানো। আর তুমি সারাদিন ব্যাংকে বসে হিসাবই মেলাও। জন্ম থেকেই তোমার কাজটা ঠিক করা ছিল।
শুধু একটা হিসাব তুমি মেলাতে পারোনি — আমারটা। ওটা তুমি উল্টে দিয়েছো।
৮ অক্টোবর, ইতিহাসের পাতায়
- ১৮৭১শিকাগোর সেই বিখ্যাত অগ্নিকাণ্ড শুরু হয় এই দিনে।
- ১৯৩২ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় — ওরা আজও ৮ অক্টোবরকে নিজেদের দিন বলে মানে।
- ১৯৫৬বেসবলের ইতিহাসে ওয়ার্ল্ড সিরিজের একমাত্র “পারফেক্ট গেম” খেলা হয়।
- ১৯৭০সলঝেনিৎসিন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
- ২০০২তুমি এলে। আর ৮ অক্টোবর তারিখটার আসল মানে তৈরি হলো।
ইতিহাস এই দিনে অনেক কিছু করেছে। কিন্তু আমার কাছে ৮ অক্টোবরের সবচেয়ে বড় ঘটনাটা ২০০২ সালের।
তোমার সাথে যাদের জন্মদিন
- ম্যাট ডেমন
- ১৯৭০ · অভিনেতা
- সিগোর্নি উইভার
- ১৯৪৯ · অভিনেত্রী
- ব্রুনো মার্স
- ১৯৮৫ · গায়ক
- আর. এল. স্টাইন
- ১৯৪৩ · লেখক
লিস্টটা ভালো, মানছি। কিন্তু ৮ অক্টোবরে জন্ম নেওয়া সবচেয়ে ভালো মানুষটার নাম কোনো উইকিপিডিয়ায় নেই।
সে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে চাকরি করে, রান্না পারে না, লুডুতে জিতলে ভাব নেয়, আর আব্বুকে “তুই” বলে ডাকে।
আমাদের নিয়ে তুমি কতটা জানো?
আটটা প্রশ্ন। ভয় নেই, ফেল করলেও শাস্তি নেই — শুধু একটা ফোন কল।
আমাদের মাঝখানে কতটা পথ
আমি সিলেটে, তুমি মিরপুরে। মাঝখানে — কিলোমিটার — মানচিত্রে এটুকুই।
কিন্তু আমি রোজ এই পথটা পার হই। ফোনটা হাতে নিলেই হয়, আর তুমি পাশে এসে বসো।
এই একটা সংখ্যাই আমি কমাতে চাই। বাকি সব সংখ্যা বাড়ুক — দিন, বছর, স্মৃতি। শুধু এই দূরত্বটা শূন্য হোক।
আমাদের মুহূর্তগুলো মিলাও
কীভাবে খেলবে
- যেকোনো একটা কার্ডে চাপো — ওটা উল্টে গিয়ে ভেতরের লেখাটা দেখাবে।
- এবার আরেকটা কার্ডে চাপো, যেটা ওটার জোড়া বলে মনে হয়।
- দুটো এক হলে ওরা খোলাই থাকবে, আর নিচে ওই মুহূর্তটার কথা ভেসে উঠবে।
- না মিললে দুটোই আবার উল্টে যাবে — কোনটা কোথায় ছিল, মনে রাখার চেষ্টা করো।
লক্ষ্য: ছয় জোড়াই মেলানো। যত কম চালে পারবে, আমি তত বেশি খুশি হব।
মিলেছে ০ / ৬ · চাল ০
আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি?
চেপে ধরে রাখো, যন্ত্রটা মেপে বলবে।
এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে
শামসিয়া খান তন্দ্রা
আমাদের গল্পের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
—
এই সনদ কোনো প্রতিষ্ঠান দেয়নি। দিয়েছে এমন একজন, যে তোমাকে সত্যি ভালোবাসে।
— তোমার, সবসময়
স্ক্রিনশট নিয়ে রেখে দিও। এটা তোমার প্রথম সনদ, যেটা কোনো পরীক্ষার হলে বসে পেতে হয়নি।
তোমার মার্সিডিজটা আমি দেবো, ইনশাআল্লাহ
তোমার মার্সিডিজ পছন্দ — এটা আমার মনে আছে, ভুলব না। এখন তুমি এটা পড়ে হাসো, ঠিক আছে, হাসো।
কিন্তু আমি সিরিয়াস। আল্লাহ চাইলে একদিন আমি তোমার হাতে ওই চাবিটা দেবো, আর তুমি তখনো আজকের দিনের মতোই হাসবে। এটা কথার কথা না — এটা আমার পরিকল্পনা।
— তোমার, লিখে রাখলাম
যেদিন সব শেষ হয়ে গিয়েছিল
একটা দিন এসেছিল, যেদিন আমরা দুজনেই বলে দিয়েছিলাম — এখানেই শেষ। আমি কথাগুলো লিখেও ফেলেছিলাম।
তারপর যে কয়েকটা ঘণ্টা গেল — ওইটুকুই যথেষ্ট ছিল বোঝার জন্য। তোমাকে ছাড়া থাকার কথা ভাবা, আর তোমাকে ছাড়া সত্যিই থাকা — দুটো এক জিনিস না।
আমরা ফিরে এসেছি। আর সত্যি কথা হলো — ভাঙার আগে যতটা ভালোবাসতাম, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি বাসি।
জাপানে ভাঙা পাত্র ফেলে দেওয়া হয় না — ফাটলগুলো সোনা দিয়ে জোড়া লাগানো হয়। জিনিসটা তাতে লুকায় না, বরং ওই সোনার দাগটাই সবচেয়ে সুন্দর জায়গা হয়ে যায়।
আমাদেরটাও তাই। দাগটা থাকুক, তন্দ্রা। ওটাই প্রমাণ — আমরা ভেঙেছিলাম, আর আমরা ফিরেও এসেছি।
আমার দুই বোনকে তুমি নিয়ে এলে
আমার দুই বোন ঢাকায় এলো, আর তুমি নিজে গিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ওদের রিসিভ করলে। সারাটা দিন ওদের সাথে কাটালে, ঘুরলে, খেলে।
রাতে বাসায় ফিরে ওরা যখন তোমার প্রশংসা করছিল — ওই মুহূর্তটা আমি কীভাবে বোঝাই? নিজের মানুষটার কথা নিজের মানুষদের মুখে শুনতে কেমন লাগে, ওইদিন প্রথম বুঝলাম। মাশাআল্লাহ।
আর একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করেছো? এই একই তারিখে আমাদের সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। একই দিনে একটা জিনিস ভাঙল, আর তুমি আমার পরিবারের সাথে জোড়া লেগে গেলে।
তোমার আম্মু আর আমার আম্মু
আজ দুজন ভিডিও কলে কথা বললেন। কতক্ষণ ধরে যে কথা চলল, হিসাবই রাখিনি।
আমরা দুজন শুধু পাশে বসে শুনছিলাম। যে দুজন মানুষ আমাদের দুজনকে পৃথিবীতে এনেছেন, তাঁরা একে অপরের সাথে হাসছেন — এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আমি খুব কম দেখেছি।
ভালোবাসা যখন শুধু দুটো মানুষের মধ্যে থাকে, ওটা সুন্দর। আর যখন দুটো পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে — ওটা তখন আর ভালোবাসা থাকে না, ভবিষ্যৎ হয়ে যায়।
যে কথাগুলো কখনো মুখে বলা হয় না
- তুমি রাগ করলে আমি ভয় পাই না। তুমি চুপ করে গেলে পাই।
- তোমার হাসিটা আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা — আর তুমি সেটা জানো, এটাই সমস্যা।
- তুমি আমার নাম ধরে ডাকলে আমার দিনটা ওখানেই ভালো হয়ে যায়, বাকিটা আর লাগে না।
- ভবিষ্যতের খুব বেশি পরিকল্পনা আমি করি না। শুধু একটা করি — ওখানে তুমি থাকবে।
- তোমাকে ভালোবাসা আমার কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ওটা এমনিতেই হয়ে গেছে, আর আমি আটকাইনি।
জানি না কতদিন থাকবে।
তবে যতদিন আছো — ভালোবাসি, অনেক।
ভবিষ্যতের কোনো গ্যারান্টি আমি দিতে পারি না, তন্দ্রা। কেউই পারে না। কিন্তু একটা জিনিস আমি নিশ্চিত জানি — আজ, এই মুহূর্তে, তোমাকে আমি যতটা ভালোবাসি, ততটা আর কাউকে বাসিনি।
যদি কোনোদিন সব বদলেও যায়, এই পাতাটা থেকে যাবে। প্রমাণ হয়ে থাকবে যে একটা মানুষ তোমাকে সত্যি ভালোবেসেছিল — কোনো কারণ ছাড়াই, একদম হুদাই।
লাইনটা আমি লিখেছিলাম ভাঙার আগে। ২৭ তারিখের পর ওটা আরও সত্যি হয়ে গেছে।
সবকিছু গোনা আছে
ব্যাংকে তুমি হিসাব মেলাও, আর এখানে আমি মিলিয়েছি। দেখো, একটা সংখ্যাও ভুল নেই।
শুধু একটা জিনিসের হিসাব আমি বের করতে পারিনি — তোমাকে কতটা ভালোবাসি। ওটার কোনো অঙ্ক নেই।
তন্দ্রা
তোমাকে চিনি মাত্র কয়েকটা দিন,
তবু মনে হয় — তোমার আগে আমি অসম্পূর্ণ ছিলাম।
চৌদ্দই সেপ্টেম্বর, কালো শাড়ি, একটা গাড়ির দরজা —
ওইটুকুতেই আমার সব হিসাব উল্টে গেল।
তুমি বলো “পাঁচ মিনিট”,
আর সন্ধ্যাটা চুপচাপ রাত হয়ে যায়।
আমি ঘড়ি দেখি না, তন্দ্রা —
তোমার মিথ্যেগুলোই আমার সবচেয়ে প্রিয় সত্যি।
রিকশার দুলুনি, পানের দোকান, মিরপুরের সিঙ্গারা,
লুডুর রাত, আর তোমার রাগ করা মুখ —
এগুলোই আমার সম্পদ।
ব্যাংকের খাতায় এসবের কোনো ঘর নেই।
একবার সব শেষ হয়ে গিয়েছিল, মনে আছে?
একটা দিন। শুধু একটা দিন।
ওই দিনটাই শিখিয়ে দিল —
ভাঙা জিনিস সোনা দিয়ে জোড়া লাগে, আর তখন সে আরও দামি হয়।
আমি বড় কিছু চাই না।
তোমার হাসিটা থাকুক, রাগটা পাঁচ মিনিটই থাকুক,
আর হাতটা আমার হাতে থাকুক —
এইটুকুই আমার পুরো ভবিষ্যৎ।
— কাশিম উদ্দিন মাছুম
খেয়াল করেছো? প্রথম অক্ষরগুলো পড়ো —
ততোমার নাম দিয়ে আমার দিনটা শুরু হয়,
ননতুন কিছু চাই না, তুমি থাকলেই হয়,
দদিনগুলো আমি তোমার নামেই লিখে রাখি,
রারাত জেগে তোমার কথা ভেবেই কাটাই বাকি।
এই চিঠিটা এখনো খোলা যাবে না।
—
শুভ জন্মদিন, তন্দ্রা। আজকের দিনটার জন্য এই চিঠিটা আমি অনেক আগেই লিখে সিল করে রেখেছিলাম — তুমি চাইলেও আগে পড়তে পারোনি।
তোমাকে আমি চিনি খুব অল্প দিন। অথচ মনে হয়, তোমার আগে আমার জীবনটা কেবল ভূমিকা ছিল — আসল গল্পটা তুমি এসে শুরু করেছো।
আজকের দিনে আমি তোমার জন্য বড় কিছু চাই না। শুধু চাই — তোমার হাসিটা যেন একই রকম থাকে, তোমার রাগটা যেন ৫ মিনিটই থাকে, আর তোমার হাতটা যেন আমার হাতেই থাকে।
জন্মদিন সবার আসে। কিন্তু আজকের দিনে পৃথিবীর একটা লাভ হয়েছিল — সেটা সবাই জানে না। আমি জানি।
— মাছুম
তন্দ্রা,
এই ওয়েবসাইটটা তোমার আসল উপহার না। এটা শুধু একটা চিঠি — যে চিঠিটা হারিয়ে যাবে না, চুপচাপ এখানেই থেকে যাবে।
৮ অক্টোবর তোমার জন্মদিন। কিন্তু আমার কাছে তোমার দিন শুরু হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর — যেদিন তুমি কালো শাড়ি পরে গাড়ি থেকে নামলে, আর আমার সব হিসাব উল্টেপাল্টে দিলে।
মাঝখানে আমরা একবার হারিয়েও গিয়েছিলাম — এক দিনের জন্য। ওই একটা দিন আমাকে যা শিখিয়েছে, বাকি সব দিন মিলেও তা পারেনি।
একত্রিশটা দিন, তন্দ্রা। মানুষ একত্রিশ দিনে একটা অভ্যাস তৈরি করে — আর আমি একটা গোটা মানুষ পেয়ে গেলাম।
আল্লাহ তোমাকে সুস্থ রাখুন, হাসিখুশি রাখুন, আর আমার কাছে রাখুন।
তুমি আমাকে অনেক কিছু পচানোর সুযোগ দিয়েছো — আংটি, মেকআপ, “৫ মিনিট”, রান্না, লুডু। কিন্তু একটা জিনিস নিয়ে আমি কোনোদিন পচাবো না: তুমি যে মানুষটা, সেটা নিয়ে। মাশাআল্লাহ।
— তোমার, সবসময়
তুমি কবে কবে এসেছিলে
—
দিন ধরে টানা আসছো
এই খাতাটা নিজে থেকেই লেখা হয়। তুমি যতবার দরজা খোলো, এখানে একটা দাগ পড়ে — মুছে যায় না।
এই বাড়িটা তোমার ফোনে অ্যাপ বানিয়ে রাখতে পারো — তাহলে লিংক খুঁজতে হবে না, হোম স্ক্রিন থেকেই খুলবে।
আর বাড়ির আলোটা তোমার পছন্দমতো করে নাও। তুমি যেটা বেছে নেবে, আমিও ঠিক ওই আলোতেই এই বাড়িটা দেখব।
আমাকে কিছু লিখে যাও
এতক্ষণ আমি বললাম। এবার তুমি বলো — যা মনে আসে। আমি পড়ব, প্রতিটা শব্দ।
৮ অক্টোবর
শুভ জন্মদিন,
আমার তন্দ্রা
এই পাতাটা তোমার। যখন মন খারাপ লাগবে, আবার খুলে পড়ো।